• সোমবার, ০৫ জুন ২০২৩, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নুর জয়জয়কার কুলাউড়া উপজেলা মাইক এন্ড সাউন্ড সিষ্টেম ব্যাবসায়ী সমিতি নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন তীব্র গরমে-৫-৮-জুন-সব-সরকারি-প্রাথমিক-বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা! বাকেরগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় দুই জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম ভান্ডারীকাঠী লোকনাথ ব্রক্ষচারী বাবার মন্দিরে ১৩৩ তম তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসব সম্পন্ন মধুপুরে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত গায়ক থেকে নায়ক অ্যাড.মেজবা শরীফ সিলেট-৪ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আওয়ামীলীগ নেতা গোলাপ মিয়া ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ গুলশান-বনানীর ব্যবসায়ীরা ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীকে মারধর, মামলা দায়ের




অবশেষে কারাবাখে রুশ বাহিনী মোতায়েন

Reporter Name / ৬৭৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০




রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালেই রুশ শান্তিরক্ষীদের কারাবাখে মোতায়েন করেছে রাশিয়া। আজেরি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ জানিয়েছেন, শুধু রাশিয়া নয়, ওই এলাকায় তুর্কি বাহিনীও মোতায়েন করা হবে।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এ চুক্তিকে নিজ দেশের জন্য গৌরবজনক বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে চুক্তিটিকে নিজের ও নিজ দেশের জনগণের জন্য বেদনাদায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়ার হস্তক্ষেপে চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই পক্ষই এবং এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে আজারবাইজান। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার জনগণ বিক্ষোভ করেছে।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, এই সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগতভাবে আমার এবং আমাদের জনগণের জন্য আমার কাছে অবর্ণনীয় ও বেদনাদায়ক। তবে বিদ্যমান সামরিক পরিস্থিতির গভীরতা বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে এটিই সবচেয়ে ভালো সমাধান। যুদ্ধ বন্ধ করতে এই চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। আজেরি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, আজারবাইজানের সামরিক সাফল্যের কারণে আর্মেনিয়া সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে কোনও রক্তপাত ছাড়াই আমরা আমাদের এলাকা ফেরত পাবো।

চুক্তিতে বলা হয়েছে যে, নাগর্নো-কারাবাখে এই মুহূর্তে যার অবস্থানে যেখানে, সে সেখানেই থাকবে। গত এক সপ্তাহে আর্মেনিয়ার কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর উদ্ধার করেছে আজারবাইজান। রবিবার তারা রাজধানীর খুব কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর উদ্ধার করেছে। যেখান থেকে কারাবাখের রাজধানীর ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব।

চুক্তির পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চুক্তি যাতে রক্ষিত হয়, তার দিকে নজর রাখা হবে। কোনও পক্ষই যাতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হবে। বিতর্কিত অঞ্চলে এবং দুই দেশের সীমান্তে রাশিয়ার প্রায় দুই হাজার সেনা মোতায়েন করা হবে। তারা শান্তির জন্য কাজ করবে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবন্দিদের দ্রুত হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে। যে সীমান্ত ব্লকেড তৈরি করা হয়েছিল, তা আর থাকবে না।

এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই আর্মেনিয়ার রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর এই চুক্তিটি হয়েছে এবং মাঝে তিনবার যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে। দুইবার রাশিয়ার মধ্যস্থতায় এবং একবার যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে। কিন্তু তিনবারই চুক্তির কয়েক মিনিটের মধ্যে দুই দেশই ভঙ্গ করেছে। তবে সোমবারের চুক্তি ভঙ্গ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কেননা, আর্মেনিয়া পরাজয় মেনেই নিয়েছে এবং রুশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ সালের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এ সংঘাতে এরইমধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। উভয়পক্ষেরই দুই হাজারেরও বেশি করে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর সামরিক জোটের সদস্য আর্মেনিয়া, যার নেতৃত্বে রয়েছে রাশিয়া। আবার আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক। তুর্কি ও আজেরি রাজনীতিকরা দুই দেশের সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করতে একটি বাক্য ব্যবহার করে থাকেন। এটি হচ্ছে, ‘এক জাতি, দুই দেশ।’ দুই দেশের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মিল রয়েছে। সূত্র: ডিডব্লিউ, আল জাজিরা।





আপনার মতামত লিখুন :

Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/deshytvn/public_html/wp-includes/functions.php on line 5613

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ